Spread the love

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহ, এক শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, হাসপাতাল ও উদ্ধারকারীদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

স্থানীয় সময় শনিবার মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে আলজাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহসহ তিনজন নিহত হন। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আলজাজিরা বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সত্যের কণ্ঠরোধের ধারাবাহিক নীতির অংশ।

অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, উইশাহ হামাসের সামরিক শাখার একজন সদস্য ও স্নাইপার ছিলেন এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি আইডিএফ। একই হামলায় নিহত অপর দুই ব্যক্তিকেও হামাসের সদস্য বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন উইশাহর ভাই ও আলজাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহ। সেসময়ও আইডিএফ তাকে হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করলেও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

এদিকে গাজা শহরের সাবরা এলাকায় রাতভর আরেকটি হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু রয়েছে।

নিহত পরিবারের স্বজন নায়েল সাফাদি বলেন, হামলায় নিহতদের কারও সঙ্গে হামাসের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তারা ছিলেন নিরীহ বেসামরিক মানুষ। আরেক স্বজন মোহাম্মদ সাফাদি বলেন, “এটা কি সত্যিই যুদ্ধবিরতি? আমরা বেসামরিক নাগরিক, আমি কখনো অস্ত্র ধরিনি।”

এ ছাড়া দক্ষিণ ও উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকায়ও ইসরায়েলি হামলার খবর পাওয়া গেছে।

গাজার হামাস-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়