Spread the love

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে মাদারীপুর-১ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত এক বিএনপি কর্মীসহ কয়েকজনকে ধমক দিতে দেখা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিএনপি কর্মী তারা মিয়াসহ উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সালিশ চলাকালে এক পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য হানজালা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

সালিশে উপস্থিত বিএনপি কর্মী তারা মিয়া অভিযোগ করেন, বিচার চলাকালে এমপি অন্যদের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দিতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার প্রতিবাদ করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তার দাবি, জরিমানার শিকার ব্যক্তি একজন দরিদ্র মানুষ, যার পক্ষে এত টাকা পরিশোধ করা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, শত শত মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আসা স্বাভাবিক। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো ধৈর্যের সঙ্গে সবার বক্তব্য শোনা। অন্যথায় তা জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে একতরফা সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।

স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংটি সেখানেই শেষ হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। এলাকার মানুষ তার উপস্থিতিতেই সালিশ করতে চেয়েছিল। সালিশ চলাকালে উভয় পক্ষ বারবার তর্কে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই তিনি ধমক দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে অল্প ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পীরজাদা হানজালা। এর আগে ‘খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’ মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। পরে ওই বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন।

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়