কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোমতী নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বুড়িচং-রামপুর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
গোমতী নদী বুড়িচং উপজেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। নদীর পশ্চিম অংশে রয়েছে চারটি ইউনিয়ন এবং পূর্ব অংশে চারটি ইউনিয়নের পাশাপাশি একটি পৌরসভা। গোমতী নদীর ওপর গোবিন্দপুর সেতু নির্মাণের পর বুড়িচং-রামপুর সড়কটি দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব পায়। প্রতিদিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট যাত্রীবাহী যানবাহনে কয়েক হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় এর অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো ঢেকে যাওয়ায় কোথায় কত বড় গর্ত রয়েছে তা বোঝা যায় না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা।
শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. তফাজ্জল হোসেন সলিম বলেন, বুড়িচং সদরের সঙ্গে আমাদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় আমাদের জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে চরম কষ্ট করতে হচ্ছে। এলাকার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত সড়কটির সংস্কার দেখতে চাই।
জিহান ফুটওয়্যারের এক কর্মী বলেন, প্রতিদিন অফিসে যাওয়া-আসার সময় বড় বড় গর্তের কারণে আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন দুর্ঘটনা ঘটে সেই শঙ্কা সবসময় কাজ করে।
ভারিকোটা গ্রামের বাসিন্দা ছাদেক মিয়া বলেন, সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে বুড়িচং যাওয়ার কথা ভাবলেই ভয় লাগে। তবুও জীবিকার প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হয়।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলিফ আহমেদ অক্ষর জানান, সড়কটির সংস্কার কাজের জন্য আগে টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠিকাদার কাজ না করায় তাকে জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।
দ্রুত সড়কটির সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
