Spread the love

কুমিল্লার লাকসামে ফিল্মি কায়দায় এক কিশোরীকে ঘর থেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী অপহরণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, অপহৃত কিশোরীর সঙ্গে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা মো. মাসুদ (৩২)-এর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কে তিনি কিশোরীর মামা হন। গত ফেব্রুয়ারিতে মাসুদ ওই কিশোরীকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে কিশোরীর পরিবারের দায়ের করা অপহরণ মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৭ দিন পর তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মাসুদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত কিশোরীকে পরিবারের জিম্মায় দেন এবং মাসুদকে কারাগারে পাঠান।

পরিবারের দাবি, সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাসুদ তার সহযোগীদের নিয়ে কিশোরীর বাড়িতে হামলা চালান। তারা বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ও ছাদের পথ ব্যবহার করে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় কিশোরীর মা-বাবাকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে দ্বিতীয় তলা থেকে কিশোরীকে জোরপূর্বক নিচে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ ১৭ লাখ টাকা ও প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ডুপ্লেক্স ভবনের ছাদ থেকে এক তরুণীকে কয়েকজন যুবক কাঁধে করে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কিশোরীর বাবা বলেন, “এর আগেও আমার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছিল। পুলিশ তাকে উদ্ধার করলেও এবার আবারও সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িতে হামলা চালিয়ে মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে। বাড়িতে থাকা আটটি সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। দ্রুত আমার মেয়েকে উদ্ধার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে লাকসাম থানার ওসি কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অপহরণের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়