কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামে ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, নির্মাণাধীন স্থাপনার দেয়াল-পিলার ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে বুড়িচং প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হরিপুর গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে হরিপুর মৌজার ১৩১ নম্বর দাগে ৪ শতক ভূমি ক্রয় করে যথাযথভাবে নামজারি, খতিয়ান সৃজন এবং খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।
তিনি জানান, ক্রয়কৃত জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে ইতোমধ্যে একতলার কাজ সম্পন্ন করেছেন। তবে সম্প্রতি একই গ্রামের মোঃ মাহফুজুল ইসলাম, মো. আলী হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমিতে ঘর নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা নির্মাণাধীন দেয়াল ও পিলার ভাঙচুরও করেছে।
আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে কুমিল্লা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযুক্তরা পুলিশকে হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময় তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে এবং লাশ গুম করে ফেলারও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। জীবনের নিরাপত্তা ও জমিতে ঘর নির্মাণের সহযোগিতা চেয়ে গত ৮ মে বুড়িচং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালাম আজাদ বলেন, আদালতে মামলা ও থানায় অভিযোগ করার পরও প্রভাবশালী একটি মহল তাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন স্থাপনার দেয়াল ও পিলার নিয়মিত ভাঙচুর করা হচ্ছে। এমনকি কাজ চালিয়ে যেতে মোটা অঙ্কের চাঁদাও দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, ওই ভূমির অংশীদার হোসনেয়ারা বেগমের কাছ থেকে ১ দশমিক ৩৩ শতক ভূমি ক্রয় করে বর্তমানে দখলে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আবুল কালামের খারিজ ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের জন্য একাধিকবার বসার সিদ্ধান্ত হলেও আবুল কালাম তা মানতে রাজি হননি। মাহফুজুল ইসলামের দাবি, তিনি তার নিজ খরিদকৃত ভূমিতেই দখলে আছেন।
