অপরাধ তালাশ

দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ ‘লেডি ডন’ লাইলি ফের গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ইয়াবা বিক্রির সময় লাইলি আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ‘লেডি ডন’ হিসেবে পরিচিত লাইলির বিরুদ্ধে এর আগেও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে দেবীদ্বার নিউমার্কেট এলাকার ‘আহসান মঞ্জিল’ নামের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১৫টি ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির টাকা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার লাইলি আক্তার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের ঘোষঘর গ্রামের আব্দুর রশিদ মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল একই বাসা থেকে পর্নোগ্রাফি মামলায় লাইলি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি আবারও ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন। এবার মাদক বিক্রির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, লাইলি দীর্ঘদিন ধরে দেবীদ্বার ও আশপাশের এলাকায় একটি অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত। ওই চক্রে তরুণীদের ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে প্রেমের অভিনয় ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি মাদক কারবারের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, লাইলি দীর্ঘদিন ধরে নারী ও মাদককে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। বিত্তশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং মাদক কারবারে তার প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে লাইলি আক্তার বলেন, ‘আমি ভালো হয়ে গেছি। আমার ছেলে মাদক ব্যবসা করে। ছেলে রাতে ঘুমিয়ে ছিল। তখন তার বন্ধুরা এসে ইয়াবা চাইলে আমি জানালা দিয়ে ইয়াবা দেওয়ার সময় কেউ পুলিশ দিয়ে আমাকে ধরিয়ে দেয়।’

দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাগর বড়ুয়া বলেন, ‘অভিযানকালে লাইলি আক্তারের দখলে থাকা ১৫ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির টাকা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামসহ তাকে আটক করা হয়েছে।’

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘লাইলি আক্তার খুবই ধুরন্ধর। তিনি জামিনে এসে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। আগের পর্নোগ্রাফির মামলাটিও চলমান রয়েছে। নতুন মামলার সূত্র ধরে তার সহযোগীদের আটকের চেষ্টা চলছে।’