কুমিল্লার সংবাদ

কুমিল্লায় প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ‘ডিব্বা সুমন’ গ্রেপ্তার

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর প্রতারণা মামলায় আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত এ.বি.এম আশরাফুল আলম সুমন ওরফে ‘ডিব্বা সুমনকে’ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকার ধানমন্ডি রোড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সুমন কুমিল্লা সদর উপজেলার পূর্ব বাগিচাগাঁও এলাকার মো. আলমগীরের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ডিব্বা সুমন’ নামে পরিচিত। তিনি ‘অগ্রগামী রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ ও সুমন প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ম আদালতে কোতোয়ালী থানার সি.আর মামলা নম্বর-১৬৩/২০২৩-এ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় (প্রতারণা) মামলা করা হয়। এ মামলায় গত ২৩ অক্টোবর ২০২৫ আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, অভিযোগকারী পক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামি সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফ্ল্যাট বিক্রয়ের চুক্তির শর্ত ভঙ্গ এবং ফ্ল্যাটের প্রকৃত আয়তন ও মূল্য সম্পর্কে অভিযোগকারীকে বিভ্রান্ত করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

রায়ে সুমনকে এক বছর ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, বিচার চলাকালে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ১০ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও যেসব অভিযোগ

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সুমনের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। মনির নামে এক ব্যক্তির অভিযোগ, তাকে মারধর করে জোরপূর্বক নয়টি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুমনের বিরুদ্ধে তার বৃদ্ধ বাবাকে একাধিকবার মারধর করে আহত অবস্থায় বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। এসব বিষয়ে কোতোয়ালী থানায় পৃথক অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্পত্তি বিরোধের জেরে সুমনের ছোট ভাই প্রকৌশলী মনিরের ওপর হামলা, তার হাত ভেঙে দেওয়া এবং জোর করে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ পৃথক অভিযোগ বা মামলা হিসেবে বিবেচনাধীন। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
গ্রেপ্তারের পর সুমনকে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।