ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হেসাখাল ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লার এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হাফেজ আব্দুল আলিম ভূঁইয়া (৫৮) নামের এক মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হেসাখাল গ্রামের খামারপাড়া মজুমদারবাড়ি জামে মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার হেসাখাল ইউনিয়ন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি। মসজিদ পরিচালনা কমিটির কোনো দায়িত্বে না থেকেও জোরপূর্বক ইমামকে চাকরিচ্যুত করেছেন বলে দাবি করেন মসজিদ কমিটির সদ্যঃসাবেক সেক্রেটারি মোজাফফার হোসেন সেলিম।
স্থানীয়রা জানান, হেসাখাল গ্রামের হাফেজ আবদুল আলিম ওই মসজিদে প্রায় পাঁচ বছর যাবৎ ইমামতি করে আসছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি হেসাখাল বাজার ভোটকেন্দ্রে হাফেজ আবদুল আলিম মহিলা বুথে দাঁড়িপাল্লার এজেন্টের দায়িত্ব পালন করায় ওই বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার মসজিদ কমিটির কোনো পদে না থেকেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ইমামকে চাকরিচ্যুত করেন। একক সিদ্ধান্তে ইমামকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদ করায় তিনি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোজাফফার হোসেন সেলিম ও স্থানীয় জসিম উদ্দিনের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোজাফফার হোসেন সেলিম মসজিদের মুতাওয়াল্লির কাছে অব্যাহতিপত্র প্রদান করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ইমাম আব্দুল আলিম বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমাকে জামায়াতের প্রার্থী ইয়াছিন আরাফাতের হেসাখাল কেন্দ্রের এজেন্ট হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। আমি সেই দায়িত্ব পালন করি। পরদিন সকালে জাহাঙ্গীর আলম একক সিদ্ধান্তে আমাকে মসজিদের ইমামের পদ থেকে বহিষ্কার করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার অপরাধ আমি দাঁড়িপাল্লার এজেন্ট হয়েছি।
এই অপরাধে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এখন রমজান মাস, আমি এখন কোথাও চাকরি পাব না। আমি মোবাশ্বের আলমের কাছে বিচার চাই। সামান্য বেতনে চাকরি করতাম। এটা দিয়ে আমার ৮ সদস্যের পরিবার চলত।
এখন এটা থেকে কেন আমাকে বঞ্চিত করা হলো। কেন আমাকে অপমানিত করে বিদায় করা হলো, কেন মান-সম্মান নষ্ট করা হলো।’
এ বিষয়ে মসজিদের সদ্যঃসাবেক সেক্রেটারি মোজাফফর হোসেন সেলিম বলেন, ‘বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম ইমাম সাহেবকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে বিনা নোটিশে, কারো সঙ্গে পরামর্শ না করে দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করেন। সাধারণ মসজিদ সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে মসজিদ সংশ্লিষ্ট সবাই বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ইমাম সাহেবকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাকে অসম্মান করে চাকরিচ্যুত করেছেন। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়ায় জুমার নামাজে জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার আমাকে আক্রমণ করে। এ ঘটনায় আমি মসজিদের মুতাওয়াল্লির কাছে অব্যাহতিপত্র জমা দিয়েছি।’
উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এস এম মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি সত্য। জাহাঙ্গীর ইমাম সাহেবকে মসজিদে আসার জন্য নিষেধ করেছেন। যদি তারা ইমামকে সসম্মানে আবার চাকরি ফিরিয়ে দেন, তাহলে পরিবারটি উপকৃত হবে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
