Spread the love

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার ১১টি আসন এলাকায় সন্ত্রাসীদের উপদ্রব বেড়ে চলেছে। কারও কারও হাতে আসছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। সূত্র বলছে, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় আছে। ভোটকেন্দ্রে তাদের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার পর থেকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠ পর্যায় থেকে সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনী এলাকায় দাপিয়ে বেড়ানো অন্তত ৩৪৭ জন সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজের তালিকা প্রস্তুত করেছেন। এই তালিকা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। আসন্ন নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন, ভীতি ও শঙ্কামুক্ত করতে শিগগিরই পুলিশসহ যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের তথ্যমতে, দাগি সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই তালিকা প্রকাশ করা হয়। এসব তালিকা ধরেই অস্ত্র উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর মধ্যে সর্বাধিক ৩১ জন চৌদ্দগ্রামে। কোতোয়ালিতে ৮ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ, সদর দক্ষিণ থানায় ৮ জন চাঁদাবাজ ও ৭ জন সন্ত্রাসী, চৌদ্দগ্রাম থানায় ৫ জন চাঁদাবাজ ও ২৬ জন সন্ত্রাসী। নাঙ্গলকোটে ৪ জন চাঁদাবাজ ও ৪ জন সন্ত্রাসী। লাকসামে ৯ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ। মনোহরগঞ্জে আছে ৩০ জন সন্ত্রাসী। ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬ জন সন্ত্রাসী ও ৩ জন চাঁদাবাজ। বরুড়ায় ১৮ জন সন্ত্রাসী ও ৮ জন চাঁদাবাজ। চান্দিনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ। দাউদকান্দিতে ১০ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ। তিতাসে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ১১ জন, হোমনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ। মেঘনায় ৬ জন চাঁদাবাজ ও ৩ জন সন্ত্রাসী। মুরাদনগরে ২২ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। দেবিদ্বারে ৯ জন সন্ত্রাসী। বাঙ্গরা বাজারে ৯ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তবে লালমাই ও বুড়িচংয়ের
সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজের তালিকা দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন থানায় আছে আরও অন্তত ৭৯ জন সন্ত্রাসী।
র‍্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম সমকালকে বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবির সমন্বয়ে অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যে কোনো সময় অভিযান শুরু হবে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের ভাষ্য, আসন্ন নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকেই যাচাই-বাছাই করে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, এর বাইরেও এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা নজরদারিতে রয়েছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে সন্ত্রাসীরা যাতে অবৈধ অস্ত্র দেশে নিয়ে আসতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *