Spread the love

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারির জেরে বিএনপির অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মুকবুল হোসেন বাদী হয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে এসহাক মোল্লা জুয়েলকে প্রধান আসামি করে ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে তিতাস থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিককান্দি গ্রামের আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা গ্রুপ এবং একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও মোকাররম হোসেন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে হত্যা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিএনপির প্রার্থী সেলিম ভূঁইয়ার নির্বাচনি কেন্দ্র কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরীর অনুসারী সাইফুল মেম্বার গ্রুপের মোকাররম হোসেন ও মুকবুল হোসেনসহ ৮-১০ জন পাশের গ্রাম জগতপুরে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে মানিককান্দি এলাকায় আবুল হোসেন মোল্লা গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে তাদের মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আবুল মোল্লা গ্রুপের দুইজন আহত হন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে এসহাক মোল্লা জুয়েল লোকজন নিয়ে মানিককান্দিতে অবস্থিত বিএনপির অফিসে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

মামলার বাদী মুকবুল হোসেন বলেন, “৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিএনপির নির্বাচনি কমিটি গঠন শেষে বাড়ি ফেরার পথে জগতপুর মাদ্রাসার কাছে আমাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে এসহাক মোল্লা জুয়েলের নেতৃত্বে আমাদের বিএনপির অফিস ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।”

অভিযোগ অস্বীকার করে এসহাক মোল্লা জুয়েল বলেন, “আমাদের লোকজন চটপটি খেতে গেলে মোকাররম ও তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের দুইজন আহত হয়ে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”

এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, “উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *