‘সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো, এগুলোরে কুত্তার মতো পেটানো দরকার’
মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে সাংবাদিকদের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইসলামী বক্তা ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো। এগুলোকে পেটানো দরকার।’ তাঁর অভিযোগ, মাদকবিরোধী অভিযানের ইতিবাচক দিক তুলে না ধরে সাংবাদিকেরা ইশরাক হোসেনের পিস্তল হাতে দৌড়ানোর বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
সোমবার রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
আব্বাসী বলেন, ইশরাক হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ ঠিক ছিল। তবে পিস্তল উঁচিয়ে ধরার পদ্ধতি ভালো ছিল না, কিন্তু উদ্দেশ্য মহৎ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ঘটনায় সরকার দায় নিতে চায়নি বলেও অভিযোগ করেন আব্বাসী।
তিনি আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রীর পদে থেকে ইশরাক হোসেন তাঁর বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাংবাদিকেরা অভিযানের ইতিবাচক দিক প্রচার না করে পিস্তল হাতে দৌড়ানোর বিষয়টি সামনে এনেছেন। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের একাংশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই সাংবাদিকগুলো হচ্ছে সাংঘাতিক।’
বক্তব্যে সাংবাদিকদের একাংশকে ‘হলুদ সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান আব্বাসী। তাঁর অভিযোগ, এসব সাংবাদিক বিদেশি ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের অর্থায়নে কাজ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নতি চান না। হলুদ সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বানও জানান তিনি।
আব্বাসীর ভাষ্য, সাংবাদিকেরা মাদকবিরোধী অভিযানের ইতিবাচক দিক তুলে ধরলে এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারত। দেশে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিকভাবেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
এ ছাড়া খুনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন আব্বাসী। তবে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ক্ষমা করে দেওয়াই দেশের জন্য কল্যাণকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান এই ইসলামী বক্তা।
