জাতীয়

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে দূরত্ব কমবে ৮০ কিলোমিটার, সময় বাঁচবে ২ ঘণ্টা

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে রেলপথে যাতায়াতের দূরত্ব ও সময় কমাতে ঢাকার শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন ‘কর্ডলাইন’ বা বিকল্প রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত রেলপথটি সম্পূর্ণ উড়াল (এলিভেটেড) কাঠামোয় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে। পাশাপাশি যাতায়াতের সময় বাঁচবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এ সময় লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমেও সাংবাদিকদের প্রকল্পটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা জানান, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চার বছর সময় লাগবে। তবে পুরো রেলপথ উড়াল কাঠামোয় নির্মাণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ উড়াল রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। গত ৫ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়।

জাহেদ উর রহমান বলেন, পুরো রেলপথ উড়াল কাঠামোয় নির্মাণ করা হলে প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে মাটির বাঁধ ও উড়াল কাঠামোর সমন্বয়ে রেলপথটি নির্মাণ করা হলে সম্ভাব্য ব্যয় হতো প্রায় ৭৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ উড়ালপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির কারিগরি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রস্তাবিত রেলপথে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালানোর সুযোগ থাকবে। ডাবল ট্র্যাকের ব্রডগেজ রেলপথটি ২৫ টন এক্সেল লোড বহনে সক্ষম হবে। এর নকশাগত সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। তবে পরিচালনগত সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত কর্ডলাইন নির্মিত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। রেলপথের দূরত্ব কমার পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনে সময় সাশ্রয় হবে এবং ভবিষ্যতে আধুনিক বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত কাঠামো ও বাস্তবায়ন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।