আমরা কখনো মাথা নত করব না, হাঁটু গেড়ে বসব না; জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান
ইরান কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি কিংবা আগ্রাসী হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলেও দেশটি লড়াই করতে ভয় পায় না। একই সঙ্গে সংলাপ ও কূটনীতির জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর জাতিসংঘে এটিই ছিল তার প্রথম উপস্থিতি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরান কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি। আগ্রাসীও হয়নি। বরং সবসময় আলোচনার টেবিলে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি যে লড়াই করতে আমরা ভয় পাই না।’
ভাষণে ইরানের বেসামরিক হতাহতের বিষয় তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন তিনি। ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের শিকার’ উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও নিজের দেশের অবস্থান তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র চায় না। তবে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা মেনে নেবে না তেহরান। তার ভাষায়, ‘শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি আমাদের স্বাভাবিক অগ্রগতির অংশ।’
মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের আঞ্চলিক সমস্যাগুলো এই অঞ্চলের দেশগুলোর হাতেই, এই অঞ্চলের মধ্যেই সমাধান করতে হবে। বাইরের শক্তিগুলোর খেলনা হওয়া যাবে না।’
ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ইরান, লেবানন ও সিরিয়ায় হামলার বিষয়ও তুলে ধরেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ভাষণ দেওয়ার সময় সাধারণ পরিষদ কক্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রতিনিধি সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
ভাষণের শেষে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা কখনো মাথা নত করব না, হাঁটু গেড়ে বসব না। আমরা সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে শক্তির ভাষা কখনো মেনে নেব না।’
