রেজভীয়া হোসাইনীয়া দরবার শরীফের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রচারের অভিযোগ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও একটি অনলাইন গণমাধ্যমে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মাশরা রেজভীয়া হোসাইনীয়া দরবার শরীফের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও প্রতিহিংসামূলক’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দরবার শরীফের ফকির বাজার শাখার নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রায় তিন-চার বছর আগে মৃত কাজী লুৎফুর রহমান গং ও সফিক খন্দকারের মধ্যে জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে কাগজপত্র পর্যালোচনা ও জমি মাপজোখ করে জমি ও রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করা হয়।
বক্তাদের দাবি, মাপজোখের পর মোহাম্মদ শাহীন মাস্টার নিজ উদ্যোগে গাছপালা কেটে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে দেন। এরপর থেকে খারেরা, কাঞ্চনপুর, পিতাম্বরসহ আশপাশের এলাকার লোকজন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, শাহীন মাস্টারের অভিযোগের পর বুড়িচং থানার এসআই রাকিব দুই দফা ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র পর্যালোচনা করেন। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহীন মাস্টারের ক্রয়কৃত জমির দলিল অনুযায়ী রাস্তার অবস্থান তাঁর জমির পশ্চিম পাশে নির্ধারিত হয়। ওই এলাকায় বসতবাড়িও রয়েছে। একই রাস্তা কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকার একটি কালভার্ট নির্মাণ করে। কালভার্টটি রাস্তার জায়গার কিছুটা পূর্ব পাশে হওয়ায় চলাচলের সুবিধার্থে দরবার শরীফের পক্ষ থেকে নিজেদের ক্রয়কৃত জায়গা থেকে রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
বক্তারা বলেন, গত ১ আগস্ট শাহীন আহম্মদ মাস্টার কয়েকজন সংবাদকর্মীসহ সেখানে গিয়ে চলাচলের রাস্তায় টিনের বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেন। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করলে ৮ আগস্ট সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে দক্ষ সার্ভেয়ার দিয়ে মাপজোখের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত হয় এবং ওই বেড়া সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে শাহীন আহম্মদ মাস্টার আর সমাধানের জন্য বসেননি বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর শাহীন আহম্মদ মাস্টার অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান। এরপর একটি অনলাইন গণমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ১ আগস্টের ঘটনাকে সম্পৃক্ত করে সংবাদ প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। তাদের দাবি, ওই সংবাদ ও ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহীন মাস্টার মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছেন—এমন তথ্যও ছড়ানো হচ্ছে, যা সঠিক নয়। তিনি অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গেছেন বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, এসব সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার মাধ্যমে রেজভীয়া হোসাইনীয়া দরবার শরীফের সম্মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। তারা এ ধরনের ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ সংবাদ প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করলে জায়গাটি সরকারি খাসজমি এবং দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে রেজভীয়া হোসাইনীয়া দরবার শরীফ ফকির বাজার শাখার সভাপতি আবদুল জলিল রেজভী, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান রেজভী, সহসাধারণ সম্পাদক শরীফ আহম্মদ রেজভী, প্রচার সম্পাদক আশরাফুল হক মিরন রেজভীসহ দরবার শরীফের আশেকান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
