Spread the love

বোরো ধান কাটার উৎসব চলছিল পুরোদমে। কিন্তু সেই আনন্দে হঠাৎই ছন্দপতন ঘটিয়েছে টানা অতিবৃষ্টি। গত তিনদিনের ভারী বর্ষণে হাওরের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে গেছে,ডুবে গেছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন।

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার চারটি উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৭৪০ হেক্টর (৬ হাজার ৭৭১ একর) জমির পাকা বোরো ধান তলিয়ে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষকদের ভাষ্য, আর কয়েকদিন পরই সোনালি ধান ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই বন্যার পানিতে ফসল হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওরের পানি দ্রুত বাড়ছে, যা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মাঠের পর মাঠ ধান তলিয়ে দিচ্ছে।

অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা পাকা ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা।

ধান কাটার আগেই ফসল হারানোর আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সারা বছরের শ্রম, ঋণ ও বিনিয়োগ চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দ্রুত পানি নেমে না গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তাদের আশঙ্কা।

এদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারি বৃষ্টিতে জনজীবনেও দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হওয়ায় অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এতে অন্ধকারে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হবিগঞ্জে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে অর্ধেকের কিছু বেশি এবং নন-হাওর এলাকায় মাত্র এক-পঞ্চমাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। ফলে এখনো বিপুল পরিমাণ ধান মাঠে রয়েছে, যা বর্তমানে ঝুঁকির মুখে।

চলতি বছরে জেলায় মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৩২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে টানা বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচে থাকলেও ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল জানান, হাওরাঞ্চলের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে, তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।