কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত মোট ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের দক্ষিণ তেতাভূমি এবং সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাকই এলাকা থেকে তিনজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—দক্ষিণ তেতাভূমি (বাঁশতলী) গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে মো. খোরশেদ আলম, তেতাভূমি গ্রামের মো. আলীর ছেলে মো. রাসেল এবং টাকই গ্রামের সামছুল হকের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিছুজ্জামান (পিপিএম) এর নির্দেশনায় এবং ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির মোহাম্মদ সেলিমের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পৃথকভাবে নেতৃত্ব দেন এসআই মো. মেহেদী হাসান জুয়েল, এএসআই সাইফুল আলম সিদ্দিকী ও এএসআই নাছির উদ্দিন।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. খোরশেদ আলম এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং তার বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া ছয় মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং মো. রাসেল নয় মাসের কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে মো. রাসেলের আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট জিআর ও সিআর মামলায় সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
অপরদিকে, গত ১২ জানুয়ারি (সোমবার) রাতে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও চারজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—শশীদল ইউনিয়নের মানোরা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম, উত্তর তেতাভূমি গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী মায়া বেগম (৫০), মালাপাড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মৃত আনু মিয়ার ছেলে মো. জালাল এবং পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের মো. বাশারের ছেলে মো. কামাল হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
