ব্রাহ্মণবাড়িয়া

নজরুলের শিরশ্ছেদ সৌদি আরবে, মৃত্যুর দুই দিন আগেও জানতেন না পরিবার

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের (২২) মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাত্র দুই দিন আগেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। তবে পরিবারের দাবি, নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি। ছেলের মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাঁর ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)।

নজরুল ইসলাম বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড়। পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পাস করার পর পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ২০২২ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নজরুল। সেখানে পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় সাত মাস পর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনেরা।

পরে একদিন কারাগার থেকে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের নজরুল জানান, তিনি বন্দি রয়েছেন। তবে কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাত্র দুই দিন আগে, গত রোববারও নজরুলের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছিল। তখনো তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি তাঁরা। পরে গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারেন, ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

নজরুলের পরিবারের অভিযোগ, তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে আটক থাকার পর বাংলাদেশ কনস্যুলেট কিংবা পরিবারকে না জানিয়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের আগে তিনি যথাযথ আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না এবং পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর মা-বাবা।

এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর শোকে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এ খবর সইতে না পেরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। একই দিনে পরিবারে নেমে আসে আরও শোকের ছায়া। স্বজন হারানোর বেদনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম। শোকাহত মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে তাঁদের বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুলকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. সাঈদ জানান, নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হলে ভুক্তভোগী পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

নজরুলের মৃত্যুর খবরে শোকাহত পরিবার এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।