অপরাধ তালাশ

বুড়িচংয়ে স্বামীর ফোন পেয়ে হাসপাতালে বাবা, গিয়ে দেখলেন মেয়ের নিথর দেহ;শশুর বাড়ির লোকজন পলাতক

‘আপনার মেয়ের অবস্থা বেশি ভালো না, আমরা তাকে বুড়িচং হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি’—প্রবাসী স্বামী জহিরের এমন ফোন পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান শারমিন আক্তার মুন্নির বাবা মো. মোস্তফা কামাল। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, হাসপাতালের বেডে পড়ে আছে মেয়ের নিথর দেহ। তবে পাশে ছিলেন না স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্য।রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভার জগতপুর পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।খবর তালাশ বাংলা।

রোববার রাত ১১টার দিকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি লুৎফুর রহমান জানায়, শারমিন আক্তার মুন্নি (২২) নামে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির চারজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে বুড়িচং থানায় এজাহার দায়ের করেছেন তার বাবা মো. মোস্তফা কামাল।

জানা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানী গ্রামের মো. মোস্তফা কামালের মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে বুড়িচংয়ের জগতপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে বাহরাইন প্রবাসী মো. জহিরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের তিন বছর বয়সী জেরিন আক্তার নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

নিহতের বাবা মো. মোস্তফা কামালের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিলেন স্বামী জহিরসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। টাকা-পয়সা নিয়ে বিভিন্ন সময় শারমিনকে মারধরসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বিষয়টি পরিবারকে জানানোর পর স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এজাহারে তিনি আরও অভিযোগ করেন, শারমিনকে প্রায়ই গালমন্দ, অপমান ও বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। তাকে আত্মহত্যার জন্যও প্ররোচনা দেওয়া হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।

ঘটনার দিন সকালে শারমিনের স্বামী মো. জহির তার শ্বশুর মো. মোস্তফা কামালকে ফোন করে বলেন, ‘আপনার মেয়ের অবস্থা বেশি ভালো না, আমরা তাকে বুড়িচং হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। খবর পেয়ে মোস্তফা কামাল স্বজনদের নিয়ে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় শারমিনের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির কাউকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।

বাদীর অভিযোগ, শারমিনের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার কক্ষের দরজা ভেঙে ঘরের তীরের সঙ্গে শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে বুড়িচং থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে শারমিনের স্বামী মো. জহির (৩৫), শ্বশুর মো. মোসলেম উদ্দিন (৫৫), শাশুড়ি মোসা. রেহেনা বেগম (৫২) ও দেবর মো. কবির হোসেনের (২৫) বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে এজাহার দায়ের করেছেন।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান তালাশ বাংলাকে জানান, শারমিন আক্তার মুন্নির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।