অপরাধ তালাশ

মাদকের টাকা না পেয়ে ১৩ মাসের মেয়েকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি, বাবা গ্রেপ্তার

স্ত্রীর কাছে মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে নিজের ১৩ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে শিশুর বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন।

গ্রেপ্তাররা হলেন—সাদুল্লাপুর উপজেলার সাহারাবাজার (মন্দুয়ার) গ্রামের মো. হামিদুল ইসলাম (৩৩), গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর কোমরপুর গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের মোছা. মোর্শেদা খাতুন (৪৫) এবং একই গ্রামের মোছা. জেসমিন আক্তার (২৮)। হামিদুল ইসলাম শিশুটির বাবা।

পুলিশ সুপার জানান, মাদকাসক্ত হামিদুল ইসলাম স্ত্রীর কাছে মাদক কেনার টাকা চেয়েছিলেন। টাকা না পেয়ে গত ১৭ জুলাই বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে নিজের ১৩ মাস বয়সী মেয়ে ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে বাড়ি থেকে বাজারে নিয়ে যান। পরে আব্দুল মজিদ সরকার ও মোর্শেদা খাতুনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়।

সন্তানকে ফিরে পেতে শিশুটির মা মোছা. রোমানা খাতুন (২২) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ২৭ আগস্ট শিশুর বাবার বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সাদুল্লাপুরের সাহারাবাজার মোড় থেকে হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোট উমরপুর গ্রাম থেকে আব্দুল মজিদ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া থেকে মোর্শেদা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জেসমিন আক্তারের হেফাজত থেকে শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মায়ের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

শিশুটির মা রোমানা খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘদিন সন্তানের জন্য পাগলের মতো ছুটেছি। কারো বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। শুধু অপরাধী আমার স্বামী। আমার কাছে মাদকের টাকা না পেয়ে কৌশলে জান্নাতকে নিয়ে উধাও হয় এবং পরে তাকে বিক্রি করে দেয়। আমি তার কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’