Spread the love

জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের দাবি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সাংবাদিকদের অধিকার ও প্রাপ্য নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘ ৫৫ বছরেও সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন সরকার সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “সাংবাদিকরা এবার জেগেছে, তাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। সাংবাদিকদের কী চাওয়া, কী সমস্যা—তা সরকারকে শুনতে হবে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।”

বক্তারা জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা তৈরি, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। পাশাপাশি গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে ঘোষণা এবং প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী করার দাবি জানান তারা।

সমাবেশে আরও বলা হয়, “গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার উন্নয়নের নামে আর মুলা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। অতীতে বিভিন্ন আইন করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন করে যেন এমন কিছু না হয়।”

বক্তারা তথ্যমন্ত্রীর সাংবাদিকদের তালিকা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। তারা বলেন, “কয়েকজন কুলীন সাংবাদিকের কথা শুনলেই হবে না, ৬৩ জেলার সাংবাদিকদের কথাও শুনতে হবে।”

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশনের সদস্য সচিব ও এডিটরস ফোরামের সভাপতি ওমর ফারুক জালাল, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশা, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের মহাসচিব কবি অশোক ধর, সাংবাদিক সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের মহাসচিব সুজন মাহমুদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

এছাড়া বিএমএসএফের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজি, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর ইমনসহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলার সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য রাখেন।সমাবেশ শেষে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়।