Spread the love

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে বেরাবাড়ি ও সাপগাড়ি এলাকায় প্রায় ৮ হাজার বিঘা জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

পানিতে তলিয়ে থাকা ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। একদিকে ফসল রক্ষা, অন্যদিকে সময়মতো ধান কাটার চাপ—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

এদিকে ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। যে অল্পসংখ্যক শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, তাদের প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষকরা পলিথিন দিয়ে অস্থায়ী ভেলা তৈরি করে পানির ওপর ভাসিয়ে ধান কাটছেন। পরে সেই ধান ভেলায় করে খালপাড়ে নিয়ে আসছেন। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই দিন-রাত এভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

বেড়াবাড়ি গ্রামের ৭০ বছর বয়সী কৃষক আব্দুল রহমান বলেন, “আমাগো ধান পানির নিচে ডুইবা গেছে। সময়মতো কাটতে না পারলে সব পচে যাবে। শ্রমিক পাইতেছি না, যেই পাইতেছি তারে অনেক বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। এভাবে চাষ করে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠতেছে না।”

আরেক কৃষক কাদের জানান, “ধান পানিতে থাকার কারণে রং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পচন ধরতেছে। বাজারে নিয়া গেলে ঠিকমতো দামও পাইতেছি না।”

পানিতে দীর্ঘসময় ডুবে থাকায় ধানের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। স্বাভাবিক রং পরিবর্তন হওয়ায় বাজারে ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, অতিরিক্ত পানির কারণে চলনবিল এলাকার কিছু জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়