Spread the love

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রাম থেকে নাহিদা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামীসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে নিহতের মা মিনুয়ারা বেগম বাদী হয়ে রোববার (৩০ মার্চ) নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার (২৯ মার্চ) রাতে নিজ ঘরের ভেতরে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় নাহিদার মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামের শিশু মিয়ার ছেলে তানভীর আহমেদের সঙ্গে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার গাঙ্গেরকোট গ্রামের খলিল মিয়ার মেয়ে নাহিদা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের এক বছর পর থেকেই নাহিদার ওপর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক নির্যাতন চালাত। প্রায় তিন বছর আগে তানভীর প্রবাসে চলে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে আসার পর তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ আবারও বেড়ে যায়। মৃত্যুর আগেও নাহিদাকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্বামীর পরিবারের দাবি, নাহিদা আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, নির্যাতনের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নবীনগর থানার ওসি (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বলেন,এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের মা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত স্বামী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন।