Spread the love

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আহনাফ রাইয়ান নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা ৭ বছর বয়সী ভাগ্নিও নিখোঁজ রয়েছে। দুর্ঘটনায় তার মা রেহেনা আক্তার (৫৯) মারা গেছেন, তবে বড় বোন চিকিৎসক নুসরাত জাহান খান সাবা জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।

জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে মা, বড় বোন ও ভাগ্নিকে নিয়ে রাজবাড়ী থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন আহনাফ রাইয়ান। ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ রাইয়ান রাজবাড়ীর ভবানীপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি রাজবাড়ী ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। স্কুলজীবন থেকেই বিতর্কে সক্রিয় রাইয়ান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও বিতর্ক অঙ্গনে পরিচিত মুখ ছিলেন। জাবি ডিবেটিং অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

রাইয়ানের নিখোঁজের খবরে রাজবাড়ীর বিতর্ক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজবাড়ী ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক উদ্দিন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই রাইয়ান অত্যন্ত মেধাবী ছিল। বিতর্কে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল।”

রাইয়ানের মামা আওয়াল আনোয়ার জানান, “আমার বোন রেহেনা আক্তার, ভাগ্নে রাইয়ান, ভাগ্নি ডা. সাবা এবং তার ৭ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল। সাবা কোনোভাবে বাস থেকে বের হতে পারলেও অন্যরা পারেনি। আমার বোনের মরদেহ পাওয়া গেছে, তবে রাইয়ান ও নাতনি এখনও নিখোঁজ।”

এদিকে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত সোয়া ১২টা পর্যন্ত এ ঘটনায় ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৩ জন শিশু (২ ছেলে, ১ মেয়ে) রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *