কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নে এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ পড়ুয়া যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আনন্দপুর গ্রামে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন।
ভুক্তভোগী আইরিন আক্তার (ছদ্মনাম), শ্রীমন্তপুর এম.এ সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রায় তিন বছর আগে অভিযুক্ত রাফি তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রথমে রাজি না হলেও পরবর্তীতে বিয়ের শর্তে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিভিন্ন সময় তাকে বিভিন্ন স্থানে, এমনকি কুমিল্লার একটি আবাসিক হোটেলেও নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে।
তিনি আরও জানান, গত রোববার (২২ মার্চ) রাত ১১টার দিকে অভিযুক্ত রাফি তার কয়েকজন বন্ধু—কাউছার, সাব্বির, শুভ ও আরিফকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়ির পাশে আসে এবং ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় এক মেম্বারের ফিশারিতে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগীর দাবি, পরদিন রাফির সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর বিষয়টি পরিবারকে জানালে তারা অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবি জানালে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত যুবক কালিকাপুর গ্রামের প্রবাসী আবুল কালামের ছেলে রাফি(কলেজ পড়ুয়া)। ভুক্তভোগীর আইন আক্তার ইতি ইউনিয়ন চৌকিদার হুমায়ুন কবিরের মেয়ে ও শ্রীমন্তপুর এম.এ সাত্তার উচ্চ বিদ্যালের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
ভুক্তভোগী বাবা ইউনিয়ন চৌকিদার হুমায়ুন কবির তালাশ বাংলাকে জানান,তার মেয়ে তাকে জানায় যে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাফি দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিকভাবে সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান মেম্বারদের অবগত করেন। তারা সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য বসবেন বলে জানিয়েছেন। তবে চৌকিদার হুমায়ুন স্পষ্টভাবে বলেন, “আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। আমি আইনের কাছে সুবিচার চাই।”
এ ‘ভুক্তভোগী আইরিন আক্তার ইতি সাংবাদিকদের জানায়,তিনবছর আগে রাফি আমাকে প্রেমের প্রস্তব দেয় তখন আমি রাজি ছিলাম না,পরবর্তীতে সে আমাকে হাতে পায়ে ধরলে বিয়ে করতে হবে এমন শর্ত দিয়ে আমি রাজি হই।তখন থেকেই সে আমাকে বিভিন্ন স্থানে ও কুমিল্লা আবাসিক হোটেলেও নিয়ে যায়।
এই পর্যন্ত সে আমাকে একাধিক বার শারীরিক সম্পর্ক করেছে। এখন আমি সমাজে মুখ দেখাতে পারি না। রাফি আমাকে বিয়ে না করলে আমি তার বাড়িতে গিয়ে আত্মহত্যা করে মারা যাইমু’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লিটন রেজা জানায়,মেয়ে পরিবার আমাকে এঘটনার এ বিষয়টি অবগত করেছে। আমি বলেছি উভয়কে ডেকে এনে সমাজের মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করব এবং ঘটনার সত্য হলে প্রশাসনকে অবগত করা হবে।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি লুৎফুর রহমান তালাশ বাংলাকে জানায়, আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি,যেহেতু আইন আছে, তাহলে কোনো মেম্বার বা সমাজ সালিশে বিচার করতে পারবে না। অভিযোগ সত্যতা পেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমার কাছে কোন অপরাধ ব্যক্তি ছাড় নয়, আপনাদের সহযোগীতা কামনা করি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।পুলিশ জানিয়েছে,অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
