বিএনপির জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেছেন, আন্দোলনের সময়কার সঙ্গীদের পাশাপাশি ‘কম-বেশি’ আরও রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে তারা দেশ পরিচালনা করতে চান।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে এসে ভোট শেষ হওয়ার আড়াই ঘণ্টা আগে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘‘যে সকল রাজনৈতিক দলকে একসাথে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আমরা চাই কম-বেশি সকলকে নিয়ে একসাথে দেশ পরিচালনা করতে।”
ঢাকা সেনানিবাসের আদমজী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মহাখালী, পান্থপথ, ভাষাণটেক, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়ক, সোহানবাগ ঘুরে নিজের কার্যালয়ে আসেন তিনি। এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে গুলশান মডেল স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি।
এসব কেন্দ্র ঘুরে দেখে এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষও প্রকাশ করেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের এ দিনকে স্মরণীয় হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘ভোটার উপস্থিতি যতটুকু ঢাকা শহরে দেখেছি মনে হচ্ছে মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ভরে তার ভোট প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।
“গত দুই দিনে যেভাবে দেখেছি মানুষজন লঞ্চ, স্টিমারে, ট্রেনে, বাসে করে বিভিন্ন উৎসাহ নিয়ে দেশে ফিরে গিয়েছে, যার যার এলাকায় ফিরে গিয়েছে, ভোট দেওয়ার জন্য আমরা প্রত্যাশা করি যে, ইনশাআল্লাহ আজকে সেই প্রত্যাশা নিশ্চয়ই থাকবে।”
কত আসন প্রত্যাশা করছেন- এমন প্রশ্নে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “অন্তত এতটুকু অবশ্যই প্রত্যাশা করছি, যেখানে খুব সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম হব।”
দেশজুড়ে এখনও ‘অপ্রত্যাশিত’ কিছু ঘটনা ঘটার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘সারাদেশের খবর আমি এখনো পাইনি মাত্র অফিসে আসলাম। ভোটের পাঁচ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আমি তো ঘুরছিলাম এতক্ষণ বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছিলাম। কাজেই খবর নিতে পারিনি।
“এর ভেতরে মোবাইলের মাধ্যমে আপনাদের বিভিন্ন খবরগুলো দেখছিলাম। আপনাদের খবরই দেখলাম বিভিন্ন জায়গায় এখনো কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে। কোনো একটি রাজনৈতিক দল এখনো কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা তারা বারাংবার ঘটিয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরা চাই না এসব ঘটনা ঘটুক।
“যারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের প্রতিতো মানুষের বিরূপ ধারণা হবে বলে বিশ্বাস করি। কারণ ঘটনাগুলোতো ভালো না। তারা তো বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করার বা অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করেন।”
তিনি বলেন, ভোটের সংখ্যা যত বেশি বাড়বে ততই সব দলের ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করা যাবে।
‘ফল গণনা দেরির কারণ নেই’
ফল গণনায় দেরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারেক রহমান বলেন, কেন দেরি হবে? দেরি হবার কোনো কারণ নেই।
“সমগ্র দেশের মানুষ যেখানে দ্রুত তাদের যে ভোট দিয়ে এসেছে তার ফল দ্রুতই চাইবে। আশা করব, নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করবে যাতে দেশের মানুষ দ্রুত তার ভোট প্রদানের যে ফল সেটা পায়।”
ফল গণনার সময় নিয়ে বিএনপি কোনো ‘টাইম ফ্রেম’ ঠিক করেছে কিনা- এমন প্রশ্ন ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, স্বাভাবিক একটি সাধারণ টাইম ফ্রেম তো আছেই।
‘‘প্রত্যাশা করব সেই টাইম ফ্রেমের মধ্যেই জনগণ ফল জানতে পারবে।”
ভোটের ফলাফল মেনে নেওয়া কিংবা যারা হেরে যাবে তাদেরকে ফল মেনে নিতে আহ্বান জানাবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘নির্বাচন যদি সুষ্ঠ হয়, যদি নিরপেক্ষ হয়, নির্বাচন যদি বিতর্কিতহীন হয় তাহলে অবশ্যই কেন মেনে নেব না। সব দলই মেনে নেব।
“কিন্তু অবশ্যই একটি শর্ত আছে যে, নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে হবে, শান্তিপূর্ণ হতে হবে। যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখছি- যেভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে সে এরকম বিষয় তো অবশ্যই মেনে নেওয়া যাবে না। কেউই মেনে নেবে না।”
