কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল এলাকায় পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রমিজ উদ্দিন (৫০) নামে এক বিএনপি নেতাকে কাঁচি দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদক কারবারি মকবুল হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান।
নিহত রমিজ উদ্দিন রাজপুর ইউনিয়নের শংকুচাইল উত্তরপাড়ার মৃত মোহাব্বত আলীর ছেলে।ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আজাদ জানায়, তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে তাদের খালাতো ভাই ভারত আনন্দপুরের বাসিন্দা সিরাজের ছেলে আক্তার হোসেন(৫০) তার ভাই জামির হোসেন (অদুদ মিয়ার)জামাতাকে জিম্মা করে রমিজ উদ্দিনের ভাই মিজানের কাছ থেকে গাঁজা কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা ধার নেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
গত সোমবার বিকেলে শংকুচাইল উত্তরপাড়ার শাহ আলম ও সাত্তারের দোকানের সামনে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতির সময় রমিজ উদ্দিন বিষয়টি মীমাংসা করতে এগিয়ে গেলে একই এলাকার হাসেমের ছেলে মাদক কারবারি মকবুল হোসেন তাকে কাঁচি দিয়ে পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। রমিজ উদ্দিন বোন খোরশেদা বেগম খুশো জানায়, প্রথমে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মকবুলের স্ত্রী সোজেনা আক্তার ও নিহতের ভাই মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়। নিহতের ভাই আব্দুল সাত্তার অভিযোগ করেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত একই এলাকার হাসেমের ছেলে মকবুল হোসেন(মাদক ব্যবসায়ী),সিরাজের ছেলে জামির হোসেন,নিহতের আপন ভাই মিজান,শহীদ মিয়ার ছেলে জামাল (মাদক ব্যবসায়ী),আনোয়ারা এর ছেলে সুমন (মাদক ব্যবসায়ী),সন্তোষ দাশের ছেলে সুমন দাশ (মাদক ব্যবসায়ী)সহ অজ্ঞাত কয়েকজন।তারাই আমার ভাইকে খারাপ বানিয়েছে এবং হত্যা করেছে।
পরিবার ও স্থানীয় জেসমিন আক্তার এবং মানোয়ারা জানায়,আজ শনিবার রমিজ উদ্দিনের লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হবে এবং বিকেলে জনাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও তিন ছেলে রয়েছে।তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবার ও স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার লাশ বাড়িতে আনা হবে এবং বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পরিবার জানিয়েছে। নিহত রমিজ উদ্দিনের স্ত্রী ও তিন ছেলে রয়েছে।
বুড়িচং থানার ওসি লুৎফুর রহমান তালাশ বাংলাকে বলেন, রমিজ উদ্দিনের হত্যার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
