ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দেওয়া আদালতের রায়ের ফলে তিনি আর এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এর মাধ্যমে এই আসনে বিএনপির কোনো মনোনীত প্রার্থী থাকছে না।
এর আগে মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে করা রিট গত ২১ জানুয়ারি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরবর্তীতে লিভ টু আপিল দায়ের করা হলেও তা আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন। ফলে নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েন বিএনপির এই প্রার্থী।
এ অবস্থায় কুমিল্লা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছেন। শক্ত কোনো প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচনের আগেই বিজয়ের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন তিনি—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, এর আগেই জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহীদ তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। অন্যদিকে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি আর মনোনয়নপত্র কেনেননি। ফলে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বিকল্প বা বিদ্রোহী প্রার্থীও মাঠে নেই।
তবে পুরোপুরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নয় এই আসন। হাসনাত আব্দুল্লাহর বিপরীতে নির্বাচনে লড়ছেন—গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন (ট্রাক),ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী ইরফানুল হক সরকার (আপেল),
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (দেওয়াল ঘড়ি),ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আব্দুল করিম (হাতপাখা)।
তবে বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী না থাকায় কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী মাঠে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে আছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ—এমনটাই বলছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
