এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০২টি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩৯টিতে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৪৫টি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার।
গত কয়েক বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ওঠানামার পর ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২২ সালে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ছিল ৫০টি। ২০২৩ সালে কমে দাঁড়ায় ৪২টিতে। ২০২৪ সালে ছিল ৬৫টি। ২০২৫ সালে এক লাফে তিন গুণের বেশি বেড়ে হয় ২০২টি। এবার সেই সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৩টিতে। অর্থাৎ, দুই বছর আগের তুলনায় শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে চার গুণ।
অন্যদিকে, শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০২৪ সালে ১ হাজার ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছিল। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩৪৫টিতে। এবার আরও কমে হয়েছে মাত্র ১৩৯টি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ২০৬টি, যা প্রায় ৬০ শতাংশ। দুই বছরের ব্যবধানে কমেছে প্রায় ৯০ শতাংশ।
এবারই প্রথম শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। গত বছরও শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি ছিল। আর ২০২৪ সালে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের ২১ গুণেরও বেশি ছিল।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। গত আগস্টে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। একই সময়ে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৮৪টি থেকে কমে ৬৬৯টিতে নেমে আসে। এসএসসি পরীক্ষায় শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশ, ২২৬টি, ছিল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে।
এদিকে, প্রকাশিত ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে বলে জানিয়েছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
