কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের লাটুয়ার বাজারে সরকারি কোনো দরপত্র ছাড়াই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বাজার পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বাজারটি পরিচালনার মাধ্যমে সরকারকে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সরেজমিন ঘুরে এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা যায়, লাটুয়ার বাজারটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাণিজ্যিক এলাকার মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। এর উত্তরে কংশনগর, দক্ষিণে নিমসার ও কাবিলা এবং পূর্বে ময়নামতি বাজার রয়েছে। ভৌগোলিক সুবিধার কারণে বাজারটিতে ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যাপক সমাগম ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন বা দরপত্র ছাড়াই একটি সুবিধাভোগী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এখানে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন পশুর হাট বসিয়ে আসছে। প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার এ বাজার বসে। বাজার পরিচালনাকারীরা নিজেদের ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রতিটি গরুর জন্য সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং প্রতিটি ছাগলের জন্য ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা নেওয়া হয়। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি বেশি থাকায় প্রতি হাটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি গরু এবং দেড় শতাধিক ছাগল বিক্রির জন্য আনা হয়েছে। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরাও এ বাজারে পশু কেনাবেচায় অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে, বাজারটির কোনো বৈধতা না থাকলেও সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন এবং পশু বাঁধার জন্য খুঁটি বসানো হয়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অনেকেই জানান, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারটি ক্যালেন্ডারভুক্ত নয়, তাই এটি সরকারি স্বীকৃতও নয়। আমি একাধিকবার সেখানে গিয়ে বাজার না বসাতে নির্দেশ দিয়েছি।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, ১৪৩৩ বাংলা সনের শুরু থেকে বাজারটি বসানোর চেষ্টা চলছিল। সম্ভবত ২৭ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এটি বসেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অবৈধ বাজার পরিচালনা বন্ধ করা এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রের মাধ্যমে বাজার পরিচালনা নিশ্চিত করা হোক।
