অপরাধ তালাশ

বুড়িচংয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের হাত কাছ খেকে পালালেন আসামি;অতঃপর

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো. সুমন মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে একটি পরিত্যক্ত ডোবায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বুড়িচং থানার পশ্চিম পাশে হাজী ফজর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের নিজ বাড়ি থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সুমন মিয়া বুড়িচং সদর এলাকার মৃত জজু মিয়ার ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মামলা এবং উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মালামাল চুরির মামলায় তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

পুলিশ জানায়, সকালে সুমনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে হাতকড়া পরানো হয়। একপর্যায়ে সুমন প্রস্রাব করার কথা জানালে মানবিক দিক বিবেচনা করে পুলিশ তাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় প্রস্রাব করার সুযোগ দেয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সুমন হঠাৎ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে থানা-সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা হাসেমের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বাকশীমূল এলাকার একটি জলাশয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় ঝাঁপ দেন। পানিতে নেমে ডুব দিয়ে তিনি আত্মগোপন করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ সদস্যরা জলাশয়ে নেমে তাকে ধরার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে সুমন পানির নিচে একটি গর্তে লুকিয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে থানার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জলাশয়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেন।

প্রায় এক ঘণ্টা অভিযান চালানোর পর জলাশয়ের একটি গর্তে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় সুমনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বুড়িচং থানার এসআই ও সেকেন্ড অফিসার রাকিব হাসান বলেন, সুমন মিয়া একাধিক মামলার পলাতক আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হাতকড়া পরা অবস্থায় সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ সদস্যরা কঠোর পরিশ্রম করে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, সুমন মিয়ার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার কোনো বিষয় ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।