
প্রিন্টের তারিখ: 28 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: 28 October 2026, 9:20 pm
ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন,নেভাতে হিমশিম;আরও ৭ দিন জ্বলার শঙ্কা

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন ৪২ ঘণ্টা পেরিয়েও নেভানো সম্ভব হয়নি। দফায় দফায় চেষ্টা চালিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা। পানি ও বালু ছিটিয়েও আগুন নেভানো যায়নি। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূগর্ভে জমে থাকা গ্যাসের মজুদ শেষ না হওয়ায় আগুন আরও অন্তত সাত দিন জ্বলতে পারে।
আগুনের বিস্তার ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলের চারপাশের ২০০ মিটার এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন। মাইকিং করে উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এস এম নাফিফুন আরহাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ভূগর্ভের ওপরের স্তরে জমে থাকা গ্যাসের পকেট নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে পারে। গ্যাসের চাপ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সরাসরি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়াসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে সরাসরি আগুন নেভানোর পরিবর্তে গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে ইনানী এলাকার মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে খননকাজ চলার একপর্যায়ে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বেরিয়ে আসতে শুরু করে। পরে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে অব্যাহতভাবে জ্বলছে আগুন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে।
এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ইনানী থেকে মনখালী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই এলাকার কয়েক হাজার গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ওই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বাপেক্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।