
প্রিন্টের তারিখ: 29 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: 28 October 2026, 7:01 am
কুমিল্লায় হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঝটিকা পরিদর্শন; অনিয়ম ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অসন্তুষ্ট

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা পরিদর্শন করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা আরও সাত চিকিৎসককে দ্রুত মূল কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আকস্মিকভাবে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবার মান ও হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। পরে দুই অসহায় রোগীকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনের সময় ৫১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১২ জনকে অনুপস্থিত পান মন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে সাতজন অন্যত্র সংযুক্তিতে রয়েছেন এবং বাকি পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসক হলেন—ডা. তুহিবুর রহমান, ডা. সমরজিৎ সাহা, ডা. ফারহান ইমতিয়াজ, ডা. যোবায়ের ইবনে সামস ও ডা. সুচেতা ভট্টাচার্য।
সূত্র জানায়, ডা. তুহিবুর রহমান ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে, ডা. সমরজিৎ সাহা একই বছরের ২৯ ডিসেম্বর থেকে, ডা. ফারহান ইমতিয়াজ ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে, ডা. যোবায়ের ইবনে সামস ওই বছরের ২৩ নভেম্বর থেকে এবং ডা. সুচেতা ভট্টাচার্য ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে দ্রুত মূল কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতি নারীদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড, নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার ব্যবস্থা, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে এ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১ নভেম্বর নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকেও মুরাদনগর হাসপাতালে চিকিৎসক দেওয়া হবে।
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় উন্নতি দেখলেও বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। হাসপাতালের ভেতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
এ সময় হাসপাতালের অকেজো যানবাহন দ্রুত নিলাম বা কন্ডেমনেশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি আগামী অর্থবছরের মধ্যে নতুন অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের আশ্বাস দেন।
পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে। মুরাদনগর হাসপাতালের সেবার মান আগের চেয়ে ভালো হলেও কিছু অনিয়ম নজরে এসেছে। সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।”
চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নতুন চিকিৎসক নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সমন্বয়ে মুরাদনগরের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।