
প্রিন্টের তারিখ: 29 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: 27 October 2026, 5:49 pm
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা: ৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হলেও মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত পাঁচ আসামি হলেন—কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নাওতলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মো. সোহাগ (৩৪), আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার মৃত হারুন মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), একই উপজেলার আমড়াতলী গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪), আড়াইওরা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭) এবং ধর্মপুর এলাকার মৃত সজল মিয়ার ছেলে মো. সুজন (৩২)। তারা বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সামসুল আলম জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচারের জন্য মামলাটি কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আসামি জনি, জুয়েল ও সুজনের স্থায়ী ঠিকানা তদন্তে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অভিযোগপত্রে তাদের ‘ভাসমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামে। তিনি সুশীল বৈরাগীর ছেলে। চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জের পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন বুলেট বৈরাগী। যাত্রাপথে তিনি মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে পরদিন সকালেও বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ২৫ এপ্রিল সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার আওতাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। পরে মরদেহটি থানায় নেওয়া হয়। খবর পেয়ে বুলেট বৈরাগীর পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে মরদেহটি তার বলে শনাক্ত করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা বুলেট বৈরাগীকে হত্যা করে তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা লুট করে নেয়। এ ঘটনায় নিহতের মা লিলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে গত ২৫ এপ্রিল কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
লিলিমা বৈরাগী বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি জানানো হয়েছে। যারা তার ছেলেকে হত্যা করেছেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।